বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে প্রতিবন্ধিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতা। পরিবার, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা আজকের সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপটে অনেকের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—প্রতিবন্ধী বলতে কী বোঝায় এবং তাদের শ্রেণিবিভাগ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়। মূলত শারীরিক, মানসিক বা সংবেদনশীল কোনো সীমাবদ্ধতার কারণে দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি বাধা সৃষ্টি হলে তাকে প্রতিবন্ধিতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সাধারণভাবে প্রতিবন্ধীদের কয়েকটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা হলো এমন অবস্থা যেখানে হাত-পা বা দেহের কোনো অঙ্গ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা বলতে আংশিক বা সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারানোকে বোঝানো হয়, যা একজন মানুষের শিক্ষা ও কর্মজীবনে বড় প্রভাব ফেলে। শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা বা বাকপ্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রে শোনা বা কথা বলার সক্ষমতা সীমিত থাকে, ফলে যোগাযোগে বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন হয়।
রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও আইন অনুযায়ী এই শ্রেণিবিভাগ নির্ধারণ করা হয় যাতে উপযুক্ত সেবা, ভাতা ও সহায়তা প্রদান সহজ হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং সামাজিক পরিসরে এই শ্রেণিবিভাগের জ্ঞান থাকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়। ফোরাম আলোচনায় অনেক অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যা অন্যদের সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে। সার্বিকভাবে, প্রতিবন্ধী কত প্রকার এই ধারণাটি স্পষ্টভাবে জানা থাকলে সমাজে অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব গড়ে ওঠে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সম্মান ও সমান সুযোগের অধিকারী হতে পারেন।





